School

Netflix Moment
0


 
o




গল্পের নাম: "শেষ চায়ের কাপে"

(একটি শহুরে অ্যাডাল্ট ভালোবাসার গল্প)



---


১. পরিচয়

রাত্রি ৩টা। শহরের ট্রাফিক আওয়াজ অনেকটাই স্তিমিত। তবু একটা নির্জন টেবিলে বসে আছে আরাফ। সামনে অর্ধেক খালি একটা চায়ের কাপ। চায়ের দোকানটা ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে, শহরের এই একমাত্র কোণ যেখানে এখনও নীরবতা মিশে কফির গন্ধ পাওয়া যায়।


এই দোকানেই ৮ বছর আগে প্রথম দেখা হয়েছিল ওদের — আরাফ আর নীলা।


নীলা তখন সদ্য চাকরিতে ঢুকেছে, শহরে নতুন। চোখে ভয় আর স্বপ্ন। আর আরাফ তখন এক জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড ম্যানেজার, আত্মবিশ্বাসী, সোজাসাপ্টা কথা বলে।


< >প্রথম দেখাতেই তাদের মধ্যে যে কিছু একটার শুরু হয়েছিল, সেটা কেউ মুখে বলেনি। কিন্তু সেই চোখের চাহনি, হালকা হাসি, আর অজুহাতে রাতে একসাথে চা খাওয়া… সবই ছিল একে অপরকে ধীরে ধীরে কাছে টেনে নেওয়ার প্রক্রিয়া।



---


২. সময়ের পালাবদল

প্রেমটা ঠিক বইয়ের মতো ছিল না।

নীলার জীবন ছিল হিসেবি, পরিবারকেন্দ্রিক, নিরাপত্তা খোঁজা একটা মানসিকতা।

আর আরাফ ছিল একটু ভাসমান – অনুভবপ্রবণ, নিজের মতো চলা, অস্থিরতায় ডুবে থাকা এক মানুষ।

< >

তবু তারা প্রেমে পড়েছিল।


একসাথে সিনেমা দেখা, মাঝরাতে ফোনে গল্প, নীলার রাগ আর আরাফের সরি বলা — সবই চলছিলো একটানা। কিন্তু ভালোবাসা সবসময় সুন্দর সমাপ্তি দেয় না।


কোনো এক দুপুরে নীলা বলেছিল,

“আমার পরিবার চাইছে বিয়ে করি। আমি তোকে ভালোবাসি, কিন্তু তোকে নিয়ে তারা কখনও রাজি হবে না।”


আরাফ হেসে বলেছিল,

“তাহলে ঠিক আছে, তুই পরিবারের কথা শুনে বিয়ে কর, আর আমি তোর স্মৃতিগুলা নিয়ে বাঁচি।”


সেদিনের পর তারা আর দেখা করেনি।



---


৩. ফিরে দেখা

৮ বছর পর সেই একই চায়ের দোকানে এক সন্ধ্যায় হঠাৎ করে নীলা এসে দাঁড়ায়।


আরাফ প্রথমে চিনতেই পারেনি। সে আজ একটু পরিণত, চোখের নিচে হালকা কালি, ঠোঁটে ক্লান্তির ছাপ। কিন্তু সেই হাসি এখনো আছে – যা ওকে একদিন ভালোবেসে ফেলতে বা ধ্য করেছিল।


নীলা চুপচাপ বসে, বলে,

“এই দোকানটা এখনও আছে দেখে অবাক হলাম।”


আরাফ চমকে উঠে, হেসে বলে,

“দোকানটা তো বেঁচে আছে, কিন্তু আমাদের সময়টা তো মরে গেছে অনেক আগেই।”


দুজনেই চুপ করে যায় কিছুক্ষণ। হালকা বৃষ্টি শুরু হয় বাইরে। আবার চায়ের কাপ আসে, এবার দুজনের টেবিলে।


নীলা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করে তার গল্প —

সে এখন এক ছেলের মা। বিয়েটা হয়েছিল অভিভাবকদের পছন্দে। মানুষটা খারাপ না, কিন্তু সম্পর্কটায় ভালোবাসা ছিল না, শুধু দায়িত্ব। দিনগুলো গেছে একটা যান্ত্রিক নিয়মে।


আরাফ কিছু বলে না, শুধু শুনে যায়।



---


৪. “তুই কি এখনো আমাকে ভালোবাসিস?”

নীলা হঠাৎ প্রশ্ন করে বসে।


আরাফ কাঁদে না, হাসেও না। শুধু বলে,

< >“ভালোবাসি না। এখন শুধু প্রতিদিন এক কাপ চায়ের সঙ্গে তোর কথা মনে পড়ে। ভালোবাসা থাকলে হয়তো তোকে ভুলতে পারতাম।”


নীলা তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। এই মানুষটা এখনও আগের মতোই রয়ে গেছে, শুধু চোখে আরও গভীরতা এসেছে।



---


৫. রাতটা এগোয়

নীলা বলে,

“আমি বাসায় যেতে চাই না আজ। একটু বসতে পারি তোর সাথে?”


আরাফ মাথা নাড়ে।

তারা হাঁটতে থাকে সেই পুরনো রাস্তাগুলোয়, যেখানে একসময় হাতে হাত রেখে হেঁটেছিল। একটা পার্কে গিয়ে বসে।


নীলা বলে,

“আমি ভুল করেছিলাম আরাফ। ভালোবাসাকে ভয় পেয়েছিলাম, আর এখন সেই ভয়ই আমার জীবনকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।”


আরাফ বলে,

“ভালোবাসার সময় কেবল একবার আসে। তারপর সেটা যদি হারিয়ে যায়, ফেরে না আর।”


নীলা বলে,

“তুই চাইলে আমি ফিরতে পারি। আমি শুধু শান্তি চাই।”


আরাফ দীর্ঘক্ষণ চুপ করে থেকে বলে,

“তুই ফিরে আসবি কোথায়? আমি তো নিজেই আর আগের মতো নেই। আমি তো শুধু তোর স্মৃতির ধ্বংসাবশেষে বসে আছি।”



---


৬. শেষ চায়ের কাপে

ভোর ৫টা।

তারা আবার সেই দোকানে ফেরে। শেষবারের মতো একটা চায়ের কাপ ভাগ করে খায়। এবার আর কেউ কিছু বলে না।

চোখে শুধু বোঝাপড়ার এক গভীর স্তব্ধতা।


নীলা উঠে দাঁড়ায়, বলে,

“আমি চলি আরাফ। হয়তো আবার কোনোদিন দেখা হবে।”


আরাফ বলে,

“হয়তো হবে, হয়তো হবে না। কিন্তু আজকের রাতের জন্য ধন্যবাদ। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে জীবন্ত মুহূর্তগুলোর একটা হয়ে থাকবে।”


নীলা চলে যায়।


আর আরাফ বসে থাকে...

একটা খালি চায়ের কাপ নিয়ে, যেখানে লেখা —

“True love doesn't always have a happy ending, but it always leaves a mark.”

Post a Comment

0Comments

Post a Comment (0)